চট্টগ্রাম, শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

এইটুকু বাসা, করেছিনু আশা

পরিসর.কম

প্রকাশিত : ০৩:২৪ এএম, ২৯ মে ২০১৭ সোমবার | আপডেট: ১২:৩৮ পিএম, ২৯ মে ২০১৭ সোমবার

চবি’র ছাত্রী হলের গণরুমের চিত্র ছবি: পরিসর

চবি’র ছাত্রী হলের গণরুমের চিত্র ছবি: পরিসর

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সমস্যাই শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় ভোগান্তি। বিশেষ করে ছাত্রীদের। ১৯৭৩’র বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশে র্পূণ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পায় পাহাড়ে ঘেরা মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এই ক্যাম্পাস। চট্টগ্রাম শহর থকে ২২ কিলোমিটার দূরে লোকালয়  থেকেও বিচ্ছিন্ন এই ক্যাম্পাস সম্পূর্ণ আবাসিক হবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই অধ্যাদেশ জারির ৪৪ বছরেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কি তার শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা দিতে পেরেছে?

এক বাক্যেই সবাই স্বীকার করবেন, পারেনি। বরং দিনের পর দিন সে সঙ্কট তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে। আর সে সঙ্কটের কারণে অনিবার্য বিপাকে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অপেক্ষাকৃত বেশি সঙ্কটে রয়েছেন ছাত্রীরা।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার কারণে এখানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা ভর্তি হন। ফলে ক্যাম্পাসই হয় তাদের বসবাসের স্থান। আর যাদের পরিবার চট্টগ্রাম শহরে থাকে তারাও ক্যাম্পাসে থাকতে বাধ্য হন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবহন স্বল্পতা ও যাতায়াতে ঝক্কির কারণে। এসব কারণে বিশেষ করে  মেয়েরা আবাসিক হলগুলোকেই থাকার জন্য বেছে নিতে চান।
ছাত্রীদের আবাসন ব্যবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে প্রধানত তিনটি হল। এর মধ্যে খালেদা জিয়া হলে ৫০৮টি, প্রীতিলতা হলে ৫৩১টি এবং শামসুন্নাহার হলে ৪৮১টি সিট রয়েছে। তিন হলের মোট ১৫২০ টি সিটে প্রায় ৩ হাজার ছাত্রী বাস করে। সে অর্থে প্রতি সিটেই দুজন ছাত্রী রয়েছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট নারী শিক্ষার্থী ৭ হাজার ৫ শত ৭০ জন। যাদের অধিকাংশেরই রয়েছে হল নির্ভরতা। প্রতি বছর এ সংখ্যা আরো বাড়ছে। সে তুলনায় বাড়ছেনা সিট সংখ্যা।

এ অবস্থায় দুটো বিকল্প ব্যবস্থায় ক্যাম্পাসে থাকতে হচ্ছে হলে সিট না পাওয়া ছাত্রীদের। প্রথমটি কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ‌‌’গণরুম’। আর দ্বিতীয়টি ক্যাম্পাসের বাইরে ভাড়া বাসার ছাত্রী মেস। আমাদের প্রতিবেদক দল সরেজমিনে দেখে এসেছেন ‘গণরুম’ ও ‘ছাত্রী মেসে’র চালচিত্র। ছাত্রীরা আশায় দিন গুণছেন হল সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে দূরত্ব ও প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে কবে এই সমস্যার সমাধান হবে। কবে হবে তাদের ‘এইটুকু বাসা’। সেই আশা-নিরাশার কথা বর্ণনা করেছেন শাখাওয়াত হোসাইন, ইফফাত জাহান, রিফাত সুলতানা, ইরানা পারভীন ও রেহেনা আক্তার।

 

গণরুমে দুঃসহ গণজীবন

‘ঘর-বসতির দশা যা-ই থাকুক, নিজেকে তো পরিপাটি রাখতে হবে।’  প্রীতিলতা হলের টিভি রুমের সামনে বড় আয়নায় দাঁড়িয়ে চুলে মেহেদী লাগাতে লাগাতে বললেন নিপা। মাথা গোঁজার ঠাঁই তার এই হলের ’গণরুম’ নামে পরিচিত এক নিদারুণ নীড়ে। ইসলামিক ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থী শোনালেন গণরুমের দুঃসহ গণজীবনের কাহন।

মেহেদী লাগানো শেষ হলে বললেন, চলুন দেখাই কেমন আছি আমরা।

নিপার সাথে রির্পোর্টিং টিম এগিয়ে গেল প্রীতিলতা হলের গণরুমের দিকে।

টিভি রুম ছাড়িয়ে স্টাডি রুমের পাশেই কার্ড বোর্ড দিয়ে আলাদা করা একটা জায়গা। সামনে জুতো রাখার তাক। তাকের ধারণ ক্ষমতার বাইরেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে একগাদা জুতো। সবুজ পর্দা ঠেলে ভেতরে ঢুকেই চোখে পড়লো যে দৃশ্য তাতে প্রশ্ন ওঠে, এখানে মানুষ থাকতে পারে? তবে এখানেই নিপাদের বাস।

উচ্চশিক্ষায় জীবন গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা ছাত্রী নিপার মতো আরো ৩৫ ছাত্রীর বাস এই গণরুমে। দরজা বরাবর কয়েকটি টেবিল। তাতে উপচে পড়ছে কাপড়, বই খাতা ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। বাম পাশে পাশাপাশি লাগোয়া আটটি বিছানা। ডানপাশে মেঝেতে পাতা হয়েছে আরো আটটি তোষক। ফাঁকা জায়গা বলতে কেবল কোনভাবে হাঁটার জায়াগাটুকু। মেয়েদের কেউ পড়ছে, কেউ বা বাজার থেকে ফিরে একটু বিশ্রাম নিচ্ছেন, কেউবা রান্নার আয়োজনে ব্যস্ত। শুক্রবার ক্যাম্পাসের ’বাজার বার’ হওয়ায় এই দিনের ব্যস্ততাটা পুরো হল জুড়েই একটু বেশি। তাই গণরুমের ছাত্রীদের ভোগান্তিটাও এই দিনে একটু বেশিই।

সদ্য বাজার থেকে আসা মিথিলা ঘাম মুছতে মুছতে বললেন, ‘আমাদের কোন রান্নাঘর নেই। বিভিন্ন ব্লকে ঘুরে রান্না করতে হয়। এক ব্লকে বার বার যাওয়া যায় না, বাজে মন্তব্যও শুনতে হয়। ’

নিপা জানালেন, তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার কোন লকার নেই। সবাইকে যার যার ব্যাগে রাখতে হয়। হাড়ি-পাতিলগুলো স্থান পায় খাটের নিচে। কোন টেবিল নেই পড়ালেখার জন্য।

প্রথম বর্ষের সুমি বলেন, ‘চট্টগ্রামে থাকার মত আমার কোন আত্মীয় বাড়ি নেই। তাই সমস্যা হলেও যেখানে থাকতে দিয়েছে বাধ্য হয়ে থাকছি।’

প্রথম বর্ষের ছাত্রীদের জন্য ভোগান্তিটা অনেক বেশি, বলেন সুমি।

খালেদা জিয়া হলের গণরুমে গিয়ে দেখা গেলো সেখানকার চিত্রটাও অভিন্ন। এই হলে সিট সংখ্যার তুলনায় ছাত্রী বেশি হওয়ায় হল র্কতৃপক্ষ এখানেও ব্যবস্থা করেছে গণরুমের। টিভি রুমের পাশেই ছাত্রী কমনরুমকে রুপান্তর করা হয়েছে গণরুমে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, প্রায় ৭০ জন ছাত্রী একসাথে থাকেন এই গণরুমে।

এই হলে রিপোর্টিং টিম যখন যায় তখনও দুপুর। তবুও রুমটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ঢুকতেই চোখে পড়ল হাসপাতালের বেডের মতো পাশাপাশি সারি করে রাখা প্রায় ৩২ টি বিছানা। তাতে কেউ শুয়ে আছেন, কেউ কেউ আবার গল্প করছেন। তাদের আড্ডায় যোগ দিয়েই জানা গেল কেমন কাটছে তাদের গণরুমের গণজীবন।

প্রথম বর্ষের বুশরা। গল্পের সময় বেশ চঞ্চল মনে হলেও এখানে থাকার অভিজ্ঞতার কথা বলার সময় যেন অসহায়ত্ব ফুটে উঠছিল তার চোখে মুখে। তিনি বলেন, ‘একজনের মাপে তৈরি খাটে থাকতে হয় দু’জনকে। আমাদের কোন লকার নেই, ওয়াশরুম নেই, রান্নাঘর নেই। অন্য ব্লকে গিয়ে সব কাজ করতে হয়। পড়ার কোন ব্যবস্থাও নেই। চার পাঁচ জনের জন্য একটা টেবিল বরাদ্দ। একসাথে এতজন পড়া যায়না। ডাইনিং রুমে গিয়ে পড়তে হয়। এছাড়াও ক্যান্টিন ও টিভি রুম পাশে থাকায় সারাক্ষণ শব্দ আসতে থাকে।’

সদ্য গণরুমে সিট পেয়েছেন প্রথম বর্ষের আনিকা। তিনি বলেন, ‘আমার নির্দিষ্ট কোনও সিট নেই। র্ভতি হওয়ার পর থেকে যখন যে রুমে ব্যবস্থা হয় সেখানেই থাকি। একবার তো সব জিনিসপত্রসহ আমাকে বের করে দেওয়া হল। তখন কোথায় উঠব বুঝতে পারছিলাম না। এর মধ্যে পরীক্ষা। এখন আমাকে গণরুমে সিট দেওয়া হয়েছে। বড় কষ্টে আছি।

ততক্ষণে বিকেল হয়ে গেছে। হলের বাইরে ঝুপড়িতে রিপোর্টিং টিমের আবার দেখা হয়ে গেলো নিপার সঙ্গে। ‘এতো কষ্টের মাঝেও হাসিমুখে থাকার চেষ্টা করি। সবকিছুর সঙ্গে বেশ মানিয়ে নিয়েছি, আর আশা করছি কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিলে মেয়েদের এ আবাসন ভোগান্তির নিরসন হবে’, বেশ আশা ছড়িয়ে বললেন নিপা।

পড়ন্ত বিকেলের আলো ঝিলিক তুলছিলো তার সদ্য মেহেদী রাঙানো চুলে।

 

আঁধার কুঠুরিতে ঠাঁই

চবি ক্যাম্পাসের রেলগেট সংলগ্ন চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় ছোট্ট একটি কামরা, সেখানে নেই কোন জানালা। আলো বাতাস আসে যায় দরজা পথে। একটা মাত্র ভেন্টিলেটর যা কোনও ব্যতিক্রম সৃষ্টি করে না।

adhar-kutori

একটা হলে যেখানে স্বাভাবিক হতো, সেখানে একটির সঙ্গে লাগোয়া আরেকটি করে তিনটি খাট ঠাসা। হাঁটাচলার পথটুকুও নেই বললে চলে। এই কক্ষেই বাস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্রীর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে নিয়মিত কক্ষে তাদের জায়গা হয়নি, ঠাঁই মেলেনি ঘিঞ্জি গণরুমেও। শত চেষ্টায়ও যখন হলে সিট মিললো না, বাধ্য হয়েই তাদের আবাসন এই ভাড়ায় নেওয়া আঁধার কুঠুরিতে।

অপেক্ষাকৃত ভালো বাসা ভাড়া নেওয়ার মতো টাকা জোগাড় করা দুঃসাধ্য। কম টাকায় ভাড়া করতে হয় বলেই এমন মানবেতর জীবন যাপন তাদের।

শুধু এই তিন ছাত্রীই নয়, হলে সিট না পেয়ে অনেক ছাত্রীকেই থাকতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের এলাকার ভাড়া বাসা, কটেজ বা মেসগুলোতে। কম ভাড়ার এই মেসগুলোতে একদিকে পরিবেশ যেমন অস্বাস্থ্যকর, অন্যদিকে নিরাপত্তার অভাব প্রকট।
তবে ক্যাম্পাসের বাইরে অপেক্ষাকৃত ভালো বাসা হলেও সেখানে থেকে যায় নিরাপত্তার সমস্যা।

যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী মেরিনাও থাকেন এমন একটি বাড়িতে। তিনি বলেন, ‘এখানে প্রায়ই মোবাইল ও ল্যাপটপ চুরি হয়। সেই সাথে নিরাপত্তার সমস্যা তো আছেই।’

এছাড়াও কিছু কিছু বাসার পথ এতোটাই ঘিঞ্জি যে, কেউ অসুস্থ হলে এ্যাম্বুলেন্স যাওয়ার উপায় নেই। আবাসিক ছাত্রী না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে যথাযথ সেবা পাচ্ছেন না বলেও জানান ছাত্রীরা।

 

আবাসন শিক্ষার্থীদের অধিকার: অধ্যাপক ইমাম আলি

‘মানুষের যে কয়টি মৌলিক চাহিদা আছে তার মধ্যে বাসস্থান নিশ্চিতভাবে স্বীকৃত। শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যক্তিত্ব ও মননশীলতার বিকাশে এবং সার্বজনীনতা চর্চার জন্য ক্যাম্পাসে আবাসন সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে সিটের তুলনায় দ্বিগুণ সংখ্যক ছাত্রী থাকছে। কিন্তু তারা যদি র্নিধারিত সিটে থাকতে পারত তাদের মনোঃসামাজিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়ত।’ কথাগুলো বলেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এফ এম ইমাম আলি।

অধ্যাপক ইমাম আলি বলেন, হলে থাকা শিক্ষার্থী আর কটেজে থাকা শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা ভিন্ন হয়। শুধু মানসিক নয়, অর্থনৈতিক সামর্থ্যের ব্যাপারটিও রয়েছে। যাদের আর্থিক কোন সমস্যা নেই তারা বাইরের কটেজ বা বাসায় থাকতে পারছে কিন্তু বাকিরাতো পারছেনা।  এছাড়া দূরাঞ্চল থেকে আসা ছাত্রীরা হলে সিট না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার সমস্যা তো রয়েছেই।

’হলে সিট না পেলে আন্তঃসাংস্কৃতিক র্চচা ও জ্ঞান বৈচিত্রতায় পিছিয়ে পড়েন ছাত্রীরা,’ যোগ করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের হলগুলোতে সিট সংখ্যা বাড়ানোয় আরো বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মত দেন এই ছাত্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সরকার থেকে যে অনুদান বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটা অপ্রতুল। তাই শিক্ষার্থীরা আবাসন ফান্ডে আরেকটু বেশি আবদান রাখলে বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব উদ্যোগে হল নির্মাণ করতে পারতো।  তিনি আরও বলেন, আবাসন সংকটের ফলে আরো বেশ কিছু সমস্যা দেখা দেয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার যে অধিকার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়ার কথা তা পাচ্ছেনা।   যারা ক্যাম্পাসের বাইরে বিভিন্ন কটেজে বাস করছেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অবশ্যই বাড়ি বা কটেজের মালিকদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যোগাযোগ থাকা প্রয়োজন বলে মত দেন অধ্যাপক ইমাম আলি।  তিনি বলেন, কোন মেয়ে সমস্যায় পড়লে যেন প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে সে সুযোগ সুষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসা সেবা পাওয়ার মতো সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রশাসনের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সাথে শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ আরো সহজ করার পরামর্শ দেন ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ইমাম আলি।

 

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

ছাত্রীদের ‘গণরুম’ সম্পর্কে খালেদা জিয়া হলের সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক এ কে এম জিয়াউর রহমান খান বলেন, আমাদের ৫০৮টি সিটের বিপরীতে প্রায় ৯০০ জন ছাত্রী বাস করছে। স্টাডিরুমসহ অন্যান্য রুমগুলো আবাসিক রুম করা হয়েছে। ৭০ থেকে ৮০ জন করে থাকে ওইসব রুমে। অনেক ছাত্রী আছে যাদের ভর্তি হওয়ার পর চট্টগ্রামে একদিনও থাকার জায়গা নেই। তখন আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ধারণ ক্ষমতার বাইরে গিয়েও তাদের রাখার চেষ্টা করি।

গণরুমের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও গণরুম আছে। তেমনি আমাদেরও আছে। একটা রুমে ৬০ থেকে ৭০ জন থাকলে তো সব সুযোগ সুবিধা দেওয়া যায় না।

প্রীতিলতা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শান্তি রাণী হালদারও গণরুমের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে নিলেন। তিনি বলেন, আমি মাত্র দু’মাস হলো জয়েন করেছি। হলের সব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের ব্যবস্থা করব।’

ক্যাম্পাসের বাইরে ও ছাত্রী মেসে থাকা ছাত্রীদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে তাদের নামের তালিকা বাসার মালিকসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এফ এম ইমাম আলী। এছাড়া প্রশাসনের সাথে ছাত্র-ছাত্রীদের যোগাযোগ করার প্রক্রিয়া আরো সহজতর করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।