চট্টগ্রাম, শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

চবি শিক্ষার্থীদের দুঃখ রাতের শাটল ট্রেন

পরিসর টিম-১

পরিসর.কম

প্রকাশিত : ০২:২৫ পিএম, ৩ অক্টোবর ২০১৮ বুধবার | আপডেট: ০২:৩০ পিএম, ৩ অক্টোবর ২০১৮ বুধবার

চবি শিক্ষার্থীদের দুঃখ রাতের শাটল ট্রেন

চবি শিক্ষার্থীদের দুঃখ রাতের শাটল ট্রেন

জোনাকীর আলো, দুপাশে কাশ বন। নিজ গতিতে চলছে রাতের শাটল ট্রেন। দূরে লোকালয়ের কৃত্রিম আলো। ভাবতেই এক অন্যরকম অনুভূতি। এই চমৎকার দৃশ্যপট নিয়েই শিক্ষার্থীরা ফিরতে পারতো তাদের প্রাণের ক্যাম্পাসে। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাতের শাটল ট্রেন যেন শিক্ষার্থীদেও র্দুদশারই অপর নাম।

প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থীকে জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে ক্যাম্পাস থেকে ২২ কেিলামিটার দূরে শহরে যেতে হয়। আর তাদের ক্যাম্পাসে ফিরে আসার একমাত্র বাহন রাত সাড়ে ৮ টার শাটল ট্রেন। কিন্তু সে শাটলে উঠার সময় তাদের নিতে হয় যুদ্ধ জয়ের ধকল। কিন্তু যুদ্ধ সেখানেই শেষ হয় না। সিট না পেলে দাঁড়িয়ে আসতে হয় প্রায় এক ঘন্টা। যদিও শাটল ট্রেন শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য। কিন্তু ভাড়া দিতে হয় না বলে নিত্য যাতায়াত করে বহিরাগতরাও।

ক্যাম্পাসের আশেপাশে বসবাসরত নানা পেশার মানুষও নিয়মিত যাতায়াত করে এই শাটল ট্রেনে। এমনকি টোকাই এর বস্তা, হাটুরের তরকারীর ঝুড়িও শাটলের পেট হয়ে পৌঁছে যায় গন্তব্যে। প্রযুক্তির আশির্বাদ আলোর উৎসবে গোটা দুনিয়া মত্ত থাকলেও চবির শিক্ষার্থীদের রাতে ক্যাম্পাসে ফিরে আসতে হয় অন্ধকার ট্রেনে। সিট না পেয়ে অনেকেই বসে যান ট্রেনের পা-দানিতে। ফলে ব্যাগ, মোবাইল, ঘড়ি সহ অনেক মূল্যবান জিনিস খোয়াতে হয়েছে অনেক শিক্ষার্থীকে। আর মাঝেমাঝে ছিনতাইকারীরা ট্রেনেও হানা দেয়। আর তাদের র্কায উদ্ধার করে পলকের মধ্যেই হাওয়া হয়ে যায়। মাঝেমধ্যেই তাদেও হামলারও শিকার হন শিক্ষার্থীরা। ছাত্রদের নিরাপত্তা রক্ষায় আইন শৃক্সক্ষলা বাহিনীর দুজন সদস্য মোতায়েন থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই নগন্য। এভাবে ভাঙ্গা সিট, বগির স্বল্পতা, নিরাপত্তাহীনতা এমনই নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রতিদিনই শির্ক্ষাথীরা ক্যাম্পাসে ফিরে। কারণ তাদের আর তেমন কোন বিকল্প নেই।

শহরের নিউমার্কেট এলাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার কিছু গণপরিবহন থাকলেও রাতে সে সংখ্যা অনেকটাই কমে যায়। ভাগ্যক্রমে পাওয়া গেলেও ক্যা¤পাসের ১ নং গেট পর্যন্ত গুনতে হয় দ্বিগুণ ভাড়া। ১ নং গেট থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার রাস্তা সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় আসতে লাগে ১০ টাকা। যেখানে নিয়মিত ভাড়া ৬ টাকা।
যদিও রাত ৯ টায় শহরের সিনেমা প্যালেস থেকে ক্যাম্পাসমুখী একটি বাস আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের, কিন্তু ভাগ্য খুব প্রসন্ন না হলে সে বাসে জায়গা পাওয়া যায় না। ছাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি আরো খারাপ।

যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হানা রুমি পরিসরকে জানান, ”প্রতিদিন রাতের ট্রেনে উঠে দেখি বহিরাগতরা বসে আছেন। এদের মধ্যে মধ্যবয়স্ক ও বয়োবৃদ্ধরাও থাকেন। ওনাদের উঠিয়ে দেয়া যায় না। আবার উনাদের সাথে শেয়ার করে বসাও যায় না। এছাড়াও অন্ধকারে কখনও কখনও বগিতে নানা ধরনের হয়রানির শিকারও হতে হয়।”

গণিত বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী তানজিনা সুলতানা বলেন, ”কোন কারণে যদি আমরা শাটল মিস করি তাহলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বাস পাওয়া যায় না, আর পেলেও দ্বিগুণ ভাড়া চেয়ে বসে। আবার নামার পর জিরো পয়েন্ট থেকেও সিএনজি চালিত টেক্সিগুলো ১০ টাকা ভাড়া চায়।”

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী পরিসরকে বলেন, ‘রাতের শাটলে ৯ টা বগি যুক্ত করা হয়েছে। বহিরাগতদের বিষয়টা আমলে নিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ে চেক করা হয়। তবে শহর থেকে ছেড়ে আসা শাটলে এ বিষয়টা দেখার সুযোগ থাকে না। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কিছু দায়িত্ব আছে।’

পরিসর/গ্রুপ-১/গ্রুপ-৪

[গ্রুপ-১: অভিষেক দেব নাথ, রোকসানা আফরোজ রূপা, সরওয়ার কামাল, মো.আশরাফুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান, নাদিয়া নূর , জোছনা আকতার]