চট্টগ্রাম, শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহারে ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

রাকিব উদ্দীন

পরিসর.কম

প্রকাশিত : ১০:০২ এএম, ৪ আগস্ট ২০১৯ রবিবার | আপডেট: ১০:০৩ এএম, ৪ আগস্ট ২০১৯ রবিবার

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহারে ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহারে ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

ইন্টারনেট ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রমশ মানসিক অস্থিরতা তৈরি করছে।যার ফলে অনেকেই তাদের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমে মনোযোগ দিতে পারছেন না।সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের একদল গবেষক স্কুল,কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক গবেষণা চালিয়ে এই তথ্য নিরূপণ করে। গবেষক দলের প্রধান অলি আহমেদ পলাশের কাছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অত্যাধিক ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে তা জানতে চাইলে তিনি পরিসরকে বলেন- একজন শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে যে ঝুঁকিতে আছেন তা বুঝার উপায় হলো :

১)সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একাগ্রচিত্তে ব্যবহার এবং ব্যবহারের সময় অন্য কিছুকে উপেক্ষা করা।

২)প্রথম দিককার ব্যবহারের আনন্দ পাওয়ার/ভালো লাগার জন্য বেশি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকা।

৩)যদি কোন ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অত্যাধিক ব্যবহার করে সে জন্য তাকে বাঁধা দিলে তার অস্বাভাবিক আবেগীয় অনুভূতি হয়। যেমন: (মেজাজ খিটখিটে লাগা, রাগ উঠা, অস্থির লাগা)

৪)অনেকবেশি একাগ্রেচিত্তে ব্যবহারের ফলে প্রাত্যহিক কাজে সমস্যা হয় (ক্লাসে যেতে দেরি হওয়া, দেরিতে ঘুমানো,খাবারে সময়ের তারতম্য)।

৫)কিছুদিন বন্ধ রাখার পর পুনরায় ব্যবহার শুরু করলে তা কিছুদিনের মধ্যে আগের তুলনায় অধিক ব্যবহারের পর্যায়ে চলে যাওয়া।

৬)নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বা কমানোর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বা অত্যাধিক ব্যবহার করা।

আমাদের গবেষণায় যে ধরনের "মানসিক সমস্যা" প্রতীয়মান হয়েছে :

১)বিষিন্নতা। ২)দুশ্চিন্তা। ৩)আন্ত: ব্যক্তিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাঁধা সৃষ্টি। ৪)আত্মবিশ্বাস কমে যায়। ৫)স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। ৬)অস্থিরতা বেড়ে যায়। ৭)একাকীত্ব ভোগা। গবেষণায় শিক্ষার্থীদের "স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির" দিকটাও পরিলক্ষিত হয়েছে - ১)ঘুমের সমস্যা। ২)চোখের সমস্যা। ৩)হাতে ব্যথা। ৪)মাথা ব্যথা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার কীভাবে সহনীয় মাত্রায় নিয়ে আসা যায় সে বিষয়ে জানতে চাইলে বিশিষ্ট মানসিক স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গবেষক ডাঃ তানজীর রশীদ সরন পরিসরকে বলেন- এখন প্রযুক্তির যুগ। প্রতি ধাপে ধাপে নতুন প্রযুক্তি আসবে এটাই স্বাভাবিক। আমি মনে করি প্রযুক্তির ভালো-মন্দ দুটো দিকে আছে। বিজ্ঞান আমাদের যেমন আর্শীবাদ করেছে তেমনি করে ক্ষতির দিকটা কম করছে না। আমরা খুবই চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড এ আছি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এর কতোটুকু ব্যবহার এবং নিরাপদ-অনিরাপদ বিষয়ে আমাদের সচেতন হওয়া জরুরী। একটা সময় দেখা যেত বাবা-মায়েরা সন্তান যদি কম্পিউটার চালাতে পারতো গর্ব বোধ করতো।সময় এসেছে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটা বাউন্ডারি তৈরি করা। সন্তান কতক্ষণ স্ক্রীন টাইম অর্থ্যাৎ স্মার্টফোন,ট্যাবলয়েড ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করা দেয়া।বাবা-মায়েদের উচিত সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দেয়া যেমন হতে পারে- ফ্যামিলি টাইম মেইটেইন করা,সাধারণ গল্প বলা,ঘুরতে নিয়ে যাওয়া,সন্তানকে সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহারের ক্ষতি সম্পর্কে অবগত করা,সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলা।